নতুন ট্রেডাররা জানতে চান "কোন শেয়ার কিনব?"। অভিজ্ঞ ট্রেডাররা জিজ্ঞেস করেন "ভুল হলে কত হারাব?"। এই দ্বিতীয় প্রশ্নটাই রিস্ক ম্যানেজমেন্ট। বাজারে যাঁরা বছরের পর বছর টিকে থাকেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় দক্ষতা এটাই — সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী নয়।
কেন এটা সবচেয়ে জরুরি: ড্রডাউনের অঙ্ক
ক্ষতির পর মূলধন ফিরে পেতে যত শতাংশ লাভ দরকার, তা ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি:
| ক্ষতি | ফিরে আসতে দরকার |
|---|---|
| ১০% | ১১.১% |
| ২০% | ২৫% |
| ৩০% | ৪২.৯% |
| ৫০% | ১০০% |
| ৭০% | ২৩৩% |
অর্থাৎ বড় ক্ষতি থেকে ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তাই প্রথম লক্ষ্য: ক্ষতিগুলো ছোট রাখা। বিস্তারিত পড়ুন Drawdown recovery math।
নিয়ম ১: প্রতি ট্রেডে মূলধনের ১%-এর বেশি ঝুঁকি নয়
মূলধন ₹১,০০,০০০ হলে এক ট্রেডে সর্বোচ্চ ক্ষতি ₹১,০০০। এর মানে এই নয় যে ₹১,০০০-এর শেয়ার কিনবেন — মানে হলো স্টপ-লস লাগলে ক্ষতি ₹১,০০০ ছাড়াবে না। এই নিয়মে টানা ১০টা ভুল ট্রেডেও মূলধনের প্রায় ৯০% থেকে যায় — আবার চেষ্টা করার সুযোগ থাকে।
নিয়ম ২: ঢোকার আগেই স্টপ-লস
স্টপ-লস এমন জায়গায় দিন যেখানে পৌঁছালে আপনার ট্রেডের যুক্তিটাই ভুল প্রমাণিত হয় — যেমন সাপোর্টের নিচে বা শেষ সুইং লো-র নিচে। "যত টাকা হারাতে রাজি" দিয়ে স্টপ-লস ঠিক করবেন না; চার্ট দিয়ে স্টপ-লস ঠিক করুন, তারপর সেই অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করুন।
আর একবার স্টপ-লস দিলে ক্ষতির দিকে সরাবেন না। বিভিন্ন ধরনের স্টপ-লস জানতে পড়ুন Stop-loss strategies।
নিয়ম ৩: পজিশন সাইজ — কত শেয়ার কিনবেন
শেয়ার সংখ্যা = (মূলধন × ঝুঁকি %) ÷ (এন্ট্রি − স্টপ-লস)
উদাহরণ: মূলধন ₹১,০০,০০০, ঝুঁকি ১% = ₹১,০০০। এন্ট্রি ₹৫০০, স্টপ-লস ₹৪৯০ — প্রতি শেয়ারে ঝুঁকি ₹১০। তাহলে শেয়ার = ১,০০০ ÷ ১০ = ১০০টা (মোট প্রায় ₹৫০,০০০-এর পজিশন)।
স্টপ-লস যদি ₹৪৮০ হতো (ঝুঁকি ₹২০), তাহলে কিনতেন ৫০টা। স্টপ-লস যত দূরে, পরিমাণ তত কম — ঝুঁকি একই থাকে। এই হিসাব সেকেন্ডে করতে ব্যবহার করুন পজিশন সাইজ ক্যালকুলেটর।
নিয়ম ৪: রিস্ক-রিওয়ার্ড অন্তত ১:২
₹১০ ঝুঁকি নিলে অন্তত ₹২০ সম্ভাব্য লাভের সুযোগ থাকা উচিত। তাহলে অর্ধেকের কম ট্রেড ঠিক হলেও সামগ্রিকভাবে টিকে থাকা সম্ভব:
১০টা ট্রেড, ৪টা ঠিক (৪ × ₹২,০০০ = ₹৮,০০০ লাভ), ৬টা ভুল (৬ × ₹১,০০০ = ₹৬,০০০ ক্ষতি) → চার্জের আগে নিট ₹২,০০০ লাভ। বিস্তারিত: Risk-reward ratio explained।
নিয়ম ৫: দিন ও সপ্তাহের ক্ষতির সীমা
- দিনে মূলধনের ২–৩% ক্ষতি হলে সেদিন ট্রেডিং বন্ধ।
- সপ্তাহে ৫–৬% ক্ষতি হলে বাকি সপ্তাহ বিরতি আর জার্নাল পর্যালোচনা।
- টানা ক্ষতির পর পজিশন ছোট করুন, বড় নয়।
"ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার" জন্য বড় ট্রেড — যাকে রিভেঞ্জ ট্রেডিং বলে — অ্যাকাউন্ট শেষ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। পড়ুন Trading psychology mistakes।
নিয়ম ৬: লিভারেজ আর একসাথে অনেক পজিশন সাবধানে
লিভারেজ ঝুঁকিকে গুণ করে। আবার একই সেক্টরের ৫টা শেয়ার কিনলে আসলে একটাই বড় বাজি — ব্যাংক সেক্টর পড়লে সবগুলো একসাথে পড়বে। মোট খোলা ঝুঁকি (সব পজিশনের স্টপ-লস মিলিয়ে) মূলধনের ৫–৬%-এর মধ্যে রাখুন।
অনুশীলন করুন, তারপর আসল টাকা
এই নিয়মগুলো পড়া সহজ, মানা কঠিন। পেপার ট্রেডিং-এ প্রতিটা ট্রেডে স্টপ-লস আর টার্গেট দিয়ে অনুশীলন করুন — আমাদের টার্মিনালে স্টপ-লস/টার্গেট ব্র্যাকেট অর্ডার আছে। প্রতিটা ট্রেড লিখে রাখুন ট্রেডিং জার্নাল-এ।
পুরো রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম — চেকলিস্ট, পজিশন সাইজের টেবিল আর দৈনিক নিয়ম সহ — পেতে দেখুন The Risk Management Playbook for Traders।
সাধারণ প্রশ্ন
১% নিয়ম কি ছোট মূলধনেও কাজ করে?
হ্যাঁ। ছোট মূলধনে এটা আরও জরুরি, কারণ বড় ক্ষতি থেকে ফেরার সুযোগ কম। প্রয়োজনে কম দামের শেয়ার বা ছোট পরিমাণে ট্রেড করুন।
স্টপ-লস লাগার পর দাম আবার উঠে গেলে কী করব?
এটা প্রায়ই হবে — এটা খেলার অংশ। স্টপ-লস আপনাকে সেই কয়েকটা বড় ক্ষতি থেকে বাঁচায় যেখানে দাম আর ফেরে না। ঘন ঘন এমন হলে স্টপ-লসের জায়গা বা এন্ট্রির নিয়ম পর্যালোচনা করুন।
রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কি বিনিয়োগেও দরকার?
হ্যাঁ — বৈচিত্র্য (এক জায়গায় সব টাকা না রাখা), জরুরি তহবিল আর নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সম্পদ ভাগ করা বিনিয়োগের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট।
BullishBrush provides stock market education only. We are not a SEBI-registered investment adviser or research analyst and do not give buy/sell recommendations or tips. Investments in securities markets are subject to market risks; read all related documents carefully before investing. Past performance does not guarantee future results.