কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে দামের ওঠানামা চার্টে কিছু পরিচিত আকার তৈরি করে — এগুলোই চার্ট প্যাটার্ন। ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন যেখানে ১–৩টা ক্যান্ডেলের গল্প, চার্ট প্যাটার্ন সেখানে অনেকগুলো ক্যান্ডেল মিলে তৈরি বড় ছবি। ঠিকভাবে চিনতে পারলে বোঝা যায় প্রবণতা চলবে নাকি ঘুরবে, আর কোথায় ঝুঁকি সীমিত রাখা যায়।
চার্ট প্যাটার্ন দুই ধরনের
- রিভার্সাল প্যাটার্ন: চলমান প্রবণতা ঘুরে যাওয়ার ইঙ্গিত (যেমন হেড অ্যান্ড শোল্ডার্স, ডাবল টপ)।
- কন্টিনিউয়েশন প্যাটার্ন: একটু বিরতির পর আগের দিকেই চলার ইঙ্গিত (যেমন ফ্ল্যাগ, পেন্যান্ট, অনেক ট্রায়াঙ্গেল)।
১০টি জনপ্রিয় চার্ট প্যাটার্ন
| প্যাটার্ন | ধরন | সংক্ষেপে |
|---|---|---|
| হেড অ্যান্ড শোল্ডার্স | বেয়ারিশ রিভার্সাল | তিনটা চূড়া, মাঝেরটা সবচেয়ে উঁচু। "নেকলাইন" ভাঙলে পতনের ইঙ্গিত। |
| ইনভার্স হেড অ্যান্ড শোল্ডার্স | বুলিশ রিভার্সাল | উল্টো আকার — তিনটা খাদ, মাঝেরটা সবচেয়ে গভীর। নেকলাইনের উপরে ব্রেকআউটে উত্থানের ইঙ্গিত। |
| ডাবল টপ | বেয়ারিশ রিভার্সাল | প্রায় একই উচ্চতায় দু'বার আটকে যাওয়া ("M" আকার)। মাঝের নিচু বিন্দু ভাঙলে নিশ্চিত হয়। |
| ডাবল বটম | বুলিশ রিভার্সাল | একই স্তরে দু'বার সাপোর্ট পাওয়া ("W" আকার)। মাঝের উঁচু বিন্দু পেরোলে নিশ্চিত হয়। |
| অ্যাসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল | সাধারণত বুলিশ | উপরে সমান রেজিস্ট্যান্স, নিচে ক্রমশ উঁচু লো — ক্রেতাদের চাপ বাড়ছে। |
| ডিসেন্ডিং ট্রায়াঙ্গেল | সাধারণত বেয়ারিশ | নিচে সমান সাপোর্ট, উপরে ক্রমশ নিচু হাই — বিক্রেতাদের চাপ বাড়ছে। |
| সিমেট্রিক্যাল ট্রায়াঙ্গেল | যেকোনো দিকে | হাই কমছে, লো বাড়ছে — দাম সংকুচিত হচ্ছে। যেদিকে ভাঙে, সেদিকে চলার সম্ভাবনা। |
| ফ্ল্যাগ | কন্টিনিউয়েশন | জোরালো চলনের ("পোল") পর ছোট, সামান্য উল্টো দিকে হেলানো চ্যানেল। |
| পেন্যান্ট | কন্টিনিউয়েশন | ফ্ল্যাগের মতোই, তবে বিরতিটা ছোট ত্রিভুজের আকার। |
| কাপ অ্যান্ড হ্যান্ডেল | বুলিশ কন্টিনিউয়েশন | গোলাকার "কাপ" আর তারপর ছোট নামা "হ্যান্ডেল"। হ্যান্ডেলের উপরে ব্রেকআউটে উত্থান। |
ব্রেকআউট কীভাবে নিশ্চিত করবেন
- ক্লোজিং দেখুন: শুধু ছুঁয়ে যাওয়া নয়, লাইনের বাইরে ক্যান্ডেল বন্ধ হওয়া দরকার — দৈনিক চার্টে হলে ভালো।
- ভলিউম বাড়ছে কিনা: ব্রেকআউটের দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভলিউম ভরসা বাড়ায়।
- রিটেস্ট: অনেক সময় দাম ব্রেকআউটের পর ভাঙা লাইনে একবার ফিরে আসে। সেখানে টিকে গেলে নিশ্চিতকরণ আরও শক্ত হয়।
"ফলস ব্রেকআউট" খুব সাধারণ — দাম লাইন পেরিয়ে আবার ভেতরে ফিরে আসে। তাই আগে থেকেই ঠিক করুন ভুল হলে কোথায় বেরিয়ে যাবেন।
টার্গেট আর স্টপ-লস হিসাব
বেশিরভাগ প্যাটার্নে একটা প্রচলিত হিসাব হলো "মেজার্ড মুভ": প্যাটার্নের উচ্চতা মেপে ব্রেকআউট পয়েন্ট থেকে সেই দূরত্ব যোগ (বা বিয়োগ) করা।
উদাহরণ: ডাবল বটমের তলা ₹৪৫০, মাঝের চূড়া ₹৫০০। উচ্চতা ₹৫০। ₹৫০০-র উপরে ব্রেকআউট হলে সম্ভাব্য টার্গেট প্রায় ₹৫৫০। স্টপ-লস সাধারণত ভাঙা লাইনের নিচে বা শেষ ছোট লো-র নিচে।
এটা একটা আনুমানিক মাপ, প্রতিশ্রুতি নয়। পৌঁছানোর আগেই দাম ঘুরে যেতে পারে। কত শেয়ার কিনবেন সেটা ঠিক করুন ঝুঁকি দেখে — পড়ুন ট্রেডিং-এ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট।
সাধারণ ভুল
- প্যাটার্ন পুরো তৈরি হওয়ার আগেই ঢুকে পড়া।
- যেখানে নেই সেখানেও প্যাটার্ন "দেখা" — জোর করে লাইন টানা।
- বড় ট্রেন্ডের উল্টো দিকে ছোট প্যাটার্নে ট্রেড করা।
- স্টপ-লস ছাড়া ট্রেড করা।
শেখার পরের ধাপ
ছোট আকারের সংকেত বুঝতে আগে পড়ুন ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন পরিচিতি। ২৪টা চার্ট প্যাটার্ন ছবি, টার্গেট আর স্টপ-লস নিয়ম সহ এক পাতায় পেতে দেখুন আমাদের Chart Patterns Cheat Sheet। আর বাংলায় পুরো টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস শিখতে Master in Technical Analysis কোর্স।
সাধারণ প্রশ্ন
কোন চার্ট প্যাটার্ন সবচেয়ে বেশি কাজ করে?
কোনো প্যাটার্নই সবসময় কাজ করে না। নতুনদের জন্য ডাবল টপ/বটম আর ট্রায়াঙ্গেল চেনা সহজ। ভলিউম আর বড় ট্রেন্ডের সাথে মিললে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে।
চার্ট প্যাটার্ন কোন টাইমফ্রেমে দেখা উচিত?
দৈনিক আর সাপ্তাহিক চার্টে প্যাটার্ন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। ছোট টাইমফ্রেমে অনেক ভুয়া প্যাটার্ন দেখা যায়।
ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন আর চার্ট প্যাটার্নের পার্থক্য কী?
ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন ১–৩টা ক্যান্ডেলের, স্বল্পমেয়াদি ইঙ্গিত দেয়। চার্ট প্যাটার্ন অনেক ক্যান্ডেল মিলে তৈরি হয় আর বড় চলনের ইঙ্গিত দেয়।
BullishBrush केवल शेयर बाज़ार की शिक्षा देता है। हम SEBI-रजिस्टर्ड निवेश सलाहकार या रिसर्च एनालिस्ट नहीं हैं और कोई खरीद-बिक्री की सलाह या टिप्स नहीं देते। शेयर बाज़ार में निवेश बाज़ार जोखिमों के अधीन है; निवेश से पहले सभी दस्तावेज़ ध्यान से पढ़ें। पिछला प्रदर्शन भविष्य की गारंटी नहीं है।